কান পাকা রোগ ও এর সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি
কারণ, জটিলতা ও আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা
ভূমিকা
কান পাকা রোগ আমাদের দেশে একটি সচরাচর স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেকেই এটিকে সাধারণ মনে করে চিকিৎসা করান না। কিন্তু সঠিক চিকিৎসা না করলে মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
কান পাকা রোগ কী?
কানের তিনটি অংশ — বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণ। মধ্যকর্ণের প্রদাহকেই সাধারণত কান পাকা রোগ বলা হয়।
এর প্রধান উপসর্গ হলো কান দিয়ে পুঁজ পড়া ও কানে কম শোনা। এটি সাধারণ (নিরাপদ) ও অনিরাপদ — দুই ধরনের হতে পারে।
সাধারণ / নিরাপদ
- দুর্গন্ধবিহীন পাতলা পুঁজ
- জীবনহানিকর নয়
- সাধারণ চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
অনিরাপদ
- দুর্গন্ধযুক্ত ঘন পুঁজ
- কোলেস্টেটোমা উপস্থিত
- মস্তিষ্কে সংক্রমণ ছড়াতে পারে
রোগ নির্ণয়
- কানের পর্দায় ছিদ্র পরীক্ষা
- অডিওমেট্রি (শ্রবণ ক্ষমতা পরিমাপ)
- এক্স-রে / সিটি স্ক্যান
- রক্ত পরীক্ষা / কালচার
চিকিৎসা পদ্ধতি
সাধারণ কান পাকা রোগ
- এন্টিবায়োটিক
- এন্টিহিস্টামিন
- জীবাণুনাশক ড্রপ
- প্রয়োজনে অপারেশন
অনিরাপদ কান পাকা রোগ
- অবশ্যই অপারেশন
- শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক
- মস্তিষ্কে জটিলতা হলে নিউরোসার্জারির সহায়তা
⚠ সম্ভাব্য জটিলতা
মস্তিষ্কের ঝিল্লীতে প্রদাহ, মস্তিষ্কে পুঁজ জমা, ফেসিয়াল নার্ভ অবশ হয়ে মুখ বেঁকে যাওয়া, কানের পেছনে পুঁজ জমা ইত্যাদি মারাত্মক জটিলতা হতে পারে।
প্রতিকার ও সচেতনতা
- প্রাথমিক অবস্থায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া
- নিয়মিত ওষুধ সেবন
- কানে পানি না ঢোকানো
- ডুব দিয়ে গোসল না করা
- কানে ময়লা পরিষ্কার না করা